প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৬:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আগামী এক সপ্তাহ দেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি এলাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
রোববার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১২ জুলাই অথবা এর আশপাশের সময়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও এ সময় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপ দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশ সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতেও পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি কিছুটা কমলেও ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন