প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১২:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে রাশিয়ার অর্থনীতিতে। যুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে মোবাইল ইন্টারনেট বারবার বন্ধ থাকায় দেশটিতে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আবারও নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান করের চাপ এড়াতে কিছু ব্যবসায়ী নানা কৌশলে নগদ লেনদেনের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে প্রায় ১ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের) নতুন মুদ্রা বাজারে ছাড়া হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাদ দিলে, বছরের এই সময়ে এত বেশি পরিমাণ অর্থ ছাপানোর ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যাংক কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। ফলে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য আবারও নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
মস্কোর এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাতে নগদ অর্থ থাকলে মানসিকভাবে বেশি নিরাপদ মনে হয়। কারণ জরুরি অবস্থায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বা অনলাইন সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও নগদ টাকায় প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা সম্ভব।
রাশিয়ায় অনিশ্চয়তার সময়ে নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা এবং ২০২৩ সালে ওয়াগনার বাহিনীর বিদ্রোহের সময়ও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে যুদ্ধের ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্রমেই চাপে পড়ছে। রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সরকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ২০ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে উন্নীত করেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট প্রদানের সীমাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ২০২৬ সালের জন্য দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ০ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ২০২২ সালের পর এটিই সবচেয়ে নিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস।
রাশিয়ার বৃহত্তম ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্বেরব্যাংক-এর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা তারাস স্কভোরতসভ বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মীদের বেতন আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থে পরিশোধ করছে। তার মতে, এটি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ অর্থ ফিরে আসার পরিবর্তে মানুষের হাতেই থেকে যাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওপোরা রাশিয়ার এক জরিপে দেখা গেছে, নতুন করের চাপ মোকাবিলায় কিছু ব্যবসায়ী নগদ লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়ার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। সংগঠনটির মে মাসের সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬ শতাংশ উদ্যোক্তা এমন প্রবণতার কথা স্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়ছে। ডিজিটাল লেনদেনে বিঘ্ন, রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ কর এবং নগদ অর্থের ওপর বাড়তি নির্ভরতা, সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন