বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ আগষ্ট, ২০২৬, ১০:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ১৩ আরোহীর সবাই নিহত

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা দেশটির বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নাজকা লাইনস দেখতে যাচ্ছিলেন।

রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে থাকা ১৩ জনের কেউই বেঁচে নেই। নিহতদের বেশির ভাগই পর্যটক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে বলেন, ‘১১ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।’

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো থেকে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে আন্দিজ পর্বতমালার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত নাজকা লাইনস। মাটিতে খোদাই করা বিশাল আকারের বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ, কাল্পনিক সত্তা ও জ্যামিতিক নকশার সমন্বয়ে গঠিত এসব ভূ-চিত্র বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে এসব ভূ-চিত্র তৈরি করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণে ইউনেস্কো ১৯৯৪ সালে নাজকা লাইনসকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

ইউনেস্কোর মতে, নাজকা লাইনসের বিশালত্ব, বৈচিত্র্য, আকৃতি ও ধারাবাহিকতা প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম বড় রহস্য। এসব জিওগ্লিফে বানর, হামিংবার্ড, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতির পাশাপাশি কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশাও রয়েছে।

মাটিতে আঁকা এসব চিত্রের বিশাল আকারের কারণে আকাশ থেকেই সেগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। এ কারণে পর্যটকদের মধ্যে নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে ছোট বিমানে ভ্রমণও বেশ জনপ্রিয়।

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ পেরু দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। নাজকা লাইনসের পাশাপাশি দেশটির মাচু পিচুর ইনকা ধ্বংসাবশেষ এবং কুস্কোর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।

এর মধ্যেই পর্যটকদের বহনকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নাজকা লাইনসের আকাশপথে পরিচালিত এ ধরনের ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন