বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আজ ডিজিএফআইয়ের জেআইসি পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের পর এবার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শনে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার (৮ আগস্ট) এই পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে জেআইসি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সঙ্গে থাকবেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

পরিদর্শন দলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা থাকবেন। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও পরিদর্শনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচারকাজে এসব গোপন বন্দিশালার বাস্তব চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণেই বন্দিশালাগুলোর অবস্থান, কক্ষের বিন্যাস এবং সেখানে বন্দিদের রাখার পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছে ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে থাকা টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা। সেদিন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তারা ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি সাতটি ডেথ সেলও পরিদর্শন করেন তারা এবং সেখানে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে সরেজমিনে ধারণা নেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। ওই শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ তুলে ধরেন।

আজকের জেআইসি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় এসব স্থান থেকে পাওয়া তথ্য, পরিবেশ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন