বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৪২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

২৫ বছরেই ক্রিকেটকে বিদায়, চোটের কাছে হার মানলেন ইংলিশ পেসার

ছবি: সংগৃহীত

বয়স মাত্র ২৫। যে বয়সে একজন ক্রিকেটারের সামনে থাকে ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন, সেই বয়সেই ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইংল্যান্ডের পেসার জন টার্নার। দীর্ঘদিনের পিঠের চোট শেষ পর্যন্ত তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিল।

পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে ২০২৫ সালের জুন থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন টার্নার। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সব ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ইংলিশ পেসার।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে টার্নার বলেন, আন্তর্জাতিক ও পেশাদার ক্রিকেটে খেলা ছিল তার শৈশবের স্বপ্ন। হ্যাম্পশায়ার ও ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামতে পারা সেই স্বপ্ন পূরণেরই অংশ ছিল।

নিজের সিদ্ধান্তের কঠিন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে আমি এক বছরের বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে। এই চোট দীর্ঘ ইতিহাস ক্রিকেটার হিসেবে এবং ক্রিকেটের বাইরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে জীবনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ গ্রহণের এটাই সঠিক সময়।’

টার্নারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে ইংল্যান্ডের জার্সিতে অভিষেক হয় তার। পরের মাসেই টি-টোয়েন্টিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলা শুরু করেন তিনি। তবে চোটের কারণে ক্যারিয়ারের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটে।

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে। জাতীয় দলের হয়ে মোট দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন টার্নার। চার ম্যাচে তার শিকার মোট তিন উইকেট।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দেখানোর সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন টার্নার। তবে দীর্ঘমেয়াদি চোট তার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারকে অকালেই থামিয়ে দিল।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে টার্নারের জন্য যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্যও হতাশার। যে বয়সে নতুন করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার কথা, সেই বয়সেই তাকে বেছে নিতে হলো জীবনের ‘পরবর্তী চ্যালেঞ্জ’।

টার্নারের ক্রিকেট অধ্যায় শেষ হলেও তার সামনে এখন নতুন জীবনের পথ। বিদায়ী বিবৃতিতে সেই পথেই এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ক্রিকেটের মাঠে স্বপ্নের যতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন, তার চেয়ে বেশি হয়তো এখন জীবনের অন্য অধ্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করার অপেক্ষা।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন