প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে এককভাবে রাজউককে দায়ী করার সুযোগ নেই। বরং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), ভবন মালিক এবং রাজউকের পরিদর্শকদের পারস্পরিক যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন নির্মাণে অনিয়মের জন্য শুধু রাজউককে দায়ী করলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। ভবন মালিক, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী ও স্থপতিদেরও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত একাধিক পক্ষ সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে।
তিনি বলেন, ‘রিহ্যাব, ভবন মালিক ও রাজউকের ইন্সপেক্টর, এই তিন পক্ষের যৌথ প্রযোজনায় অনিয়মগুলো হয়। সত্যি কথা বলছি, এই পরিস্থিতি রয়েছে।’ তবে কাউকে এককভাবে অভিযুক্ত করা তার উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়মের উৎস চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধে কাজ করছে রাজউক।
অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের পরিদর্শকদের দায়ও তুলে ধরেন রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো ইন্সপেক্টর যদি অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ভবনকে নিয়ম না মেনেই ছাড়পত্র দেন, তাহলে তাকেও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রাজউক চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে অনেক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে চাকরিসংক্রান্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় করে তুলতে তাদের মোটিভেট করার কাজও চলছে।
তিনি জানান, রাজউকে যে সংখ্যক ইন্সপেক্টর থাকার কথা, বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে এসেছে। এতে মাঠপর্যায়ের তদারকিতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও অনিয়ম বন্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ভবনের অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজউক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কোনো ভবনের অনুমোদন যদি ছয় তলার জন্য দেওয়া হয়, সেটিকে নিয়মের বাইরে গিয়ে ১০ তলা নির্মাণের পর শুধু জরিমানা নিয়ে বৈধ করে দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া এ ধরনের ভবন অনুমোদন করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ভবনের নকশা প্রণয়ন, মাটির গুণগত মান যাচাই, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ভবন ব্যবহারের অনুমোদন, প্রতিটি পর্যায়েই নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
একই সঙ্গে নকশা প্রণয়নকারী প্রকৌশলী ও স্থপতিদের দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে আনেন রিয়াজুল ইসলাম। শুধু নকশা তৈরি করেই দায়িত্ব শেষ নয়, নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই কাজ একদিনে শেষ হবে না। যখন থেকে ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে, তখন থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম চলে আসছে। আমরা এখন ধাপে ধাপে সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি।’
ভবন মালিক ও নির্মাণসংশ্লিষ্টদের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে ঝুঁকি কমাতে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কোথাও অনিয়ম হলে তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি সংস্থার তৎপরতা নয়, ভবন মালিক, নির্মাতা, প্রকৌশলী, স্থপতি এবং নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাই জরুরি,আলোচনায় রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্যে সেই বিষয়টিই উঠে আসে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন