বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৩০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

লোডশেডিংয়ের রেকর্ড, অনেক এলাকায় ১০ ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ

ছবি; সংগৃহিত

গত কয়েকদিন বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এরইমধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গ্যাস সরবরাহের সংকট দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। তীব্র গরমে সারা দেশের লোডশেডিং সব রেকর্ড ভঙ্গ করছে। ঢাকার বাইরে কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে না। রোববার বিকাল ৩টায় সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনগণ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি জানিয়েছে, কয়লা এবং গ্যাস সংকটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস। তাই লোডশেডিংয়ের রেকর্ড হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে তিন হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু রোববার বিকাল ৩টায় লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি এবং দেশের সব বিতরণ কোম্পানি। অভিযোগ আছে অনেক এলাকায় সারাদিন রাতে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পিডিবির কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি আগে খুব বেশি হয়নি।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-পিজিসিবির হিসাব অনুযায়ী রোববার বিকাল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। বিকাল ৫টায় এই সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে ঠেকেছে। এর পরও লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।
পিডিবি জানিয়েছে, আদানির সরবরাহ হঠাৎ করে অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। সাধারণ পিক আওয়ারে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট দেওয়া হলেও রোববার বিকাল ৫টায় দেওয়া হয়েছে ৮১৫ মেগাওয়াট। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আদানি কয়লা পরিবহণ করতে পারছে না। এ কারণে কয়লার মজুতও কমে গেছে। তাই তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে পিডিবিকে জানিয়েছে। তবে তাদের এ তথ্য কতটুকু সত্য তা যাচাই করতে পারেনি পিডিবি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আপাতত আদানির তথ্য বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ সেখানে পরিদর্শনের কোনো সুযোগও নেই।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন