প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই দিল্লি যাত্রা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর আগে গত দুই দিনে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। সোমবার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। একই দিন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর এক দিন আগে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি।
ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এমন সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের ধারাবাহিক এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নানা ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়া এবং সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে আসন্ন কূটনৈতিক কর্মসূচিতেও। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পেলেও এ বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
তবে মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীর এটাই প্রথম বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা। গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। এরপর গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের সরকার বাংলাদেশে ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে সাবেক রেলমন্ত্রী ও রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ভারত বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠিয়েছে। গত ৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক, এরপর দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ—দীনেশ ত্রিবেদীর এই ধারাবাহিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই দেশেই আলোচনা চলছে। ফলে তার সাম্প্রতিক সফর ও বৈঠকগুলো দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন