প্রকাশিত: ৫৫ মিনিট আগে, ০৮:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই জেলার পাঁচ উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ১০০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ সংখ্যা গত ২০২৫ সালের পুরো বছরে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। পাশাপাশি চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১০০টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এছাড়া ছাগলনাইয়ায় ৩৬টি, পরশুরামে ৩টি, সোনাগাজীতে ২টি এবং দাগনভূঞায় ১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার কয়েল ও তারই চোরচক্রের মূল লক্ষ্য। সাধারণত রাতের আঁধারে নির্জন ও জনবসতি থেকে দূরে স্থাপন করা ট্রান্সফরমারগুলোকে টার্গেট করে চোরেরা। সুযোগ বুঝে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাওয়ার পর সেগুলোর ভেতর থেকে তামার কয়েল ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতব অংশ খুলে নেওয়া হয়। পরে অবশিষ্ট যন্ত্রাংশ ফেলে রেখে যায় তারা।
ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়। এতে বিশেষ করে গরমের মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিকাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প, সেচব্যবস্থা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, একটি ৫ কেভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা। ১০ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ১ লাখ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ফলে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগকে যেমন অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, তেমনি নীতিমালা অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে এর একটি অংশ গ্রাহকদেরও বহন করতে হচ্ছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ট্রান্সফরমার প্রথমবার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য গ্রাহকদের এর মূল্যের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। একই ট্রান্সফরমার দ্বিতীয়বার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমারের পুরো মূল্যই গ্রাহকদের বহন করতে হয়। ফলে কোনো এলাকায় একবার ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর একই স্থানে পুনরায় চুরির ঘটনা ঘটলে গ্রাহকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন