বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫ আগষ্ট, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কার্যতালিকায় মামলাটির অবস্থান ২২ নম্বরে।

রামিসা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পল্লবীর একটি বাসায় থাকত। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর সোহেল রানা কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে ও স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ২৫ মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

এরপর ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ৭ জুন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পর মামলার ডেথ রেফারেন্সের প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। এখন সেই ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন