প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০২:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা, ১৪ আগস্ট: বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং শিল্পমালিকদের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালগুলোর শিল্প, পয়ঃ ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবেশমন্ত্রী শিল্প মালিকদের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন:দেশের অর্থনীতিতে সম্পদ সৃষ্টি করা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। দেশে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিতেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। কারখানার দূষিত পানি যেন কোনোভাবেই খাল বা নদীতে না পড়ে, সেজন্য কার্যকর ইটিপি (ঊঞচ) স্থাপন বাধ্যতামূলক।তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো উন্নয়ন কাজ সমন্বিতভাবে না করলে তা কখনো টেকসই হয় না। নদীগুলোকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও সৌন্দর্যায়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বিশেষ জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্জ্য নিঃসরণের ২২৪টি উৎসমুখ চিহ্নিত সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে “বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা” উপস্থাপন করা হয়।উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে মোট ২২৪টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ চিহ্নিত করা হয়েছে।এর মধ্যে এককভাবে বুড়িগঙ্গায় ১৬৬টি এবং তুরাগে ৫৮টি বর্জ্যের উৎসমুখ রয়েছে।এসব উৎসমুখ বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।উদ্বেগজনক এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।গৃহীত রূপরেখা ও মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ
উৎসমুখ বন্ধ ও তদারকি: শিল্পবর্জ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে অনুমোদনহীন ড্রেন শনাক্ত ও তাৎক্ষণিক বন্ধ করা।
ঊঞচ/ঝঞচ নিশ্চিতকরণ: কারখানাগুলোতে কার্যকর ঊঞচ পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাল ও ড্রেনেজের পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী ঝঞচ, ঊঞচ এবং ডধংঃব-ঃড়-ঊহবৎমু চষধহঃ স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
তলদেশের বর্জ্য অপসারণ: খাল ও ড্রেন থেকে কঠিন বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি নদীর তলদেশে বহু বছর ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আয়োজিত সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজউক চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠন ঋইঈঈও, ইএগঊঅ, ইকগঊঅ-এর শীর্ষ নেতাবৃন্দ, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন