প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে চিলি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্ট।
সম্প্রতি চিলির প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম পরিচয়পত্র পেশ করেন। এ তথ্য বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পরিচয়পত্র পেশের পর চিলির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে চিলির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে চিলির পক্ষ থেকে দেওয়া মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবে রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও চিলির প্রেসিডেন্টকে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী বছরের শুরুতে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। ওই সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক চুক্তি সই হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। তাঁর মতে, এই সভা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি চূড়ান্ত করার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশের এমন প্রস্তুতির কথা জেনে চিলির প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে চিলির সিনেটর রাহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। এ সময় সিনেটর ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রার্থিতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম। বৈঠকে ১৯৭২ সালের ১ জুন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চিলির স্বীকৃতির বিষয়টি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত বিশ্বখ্যাত চিলীয় কবি ও নোবেলজয়ী পাবলো নেরুদার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিলির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। উপযুক্ত বাণিজ্য কাঠামো ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এই বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের পারস্পরিক পরিপূরক পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধের পাশাপাশি চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্য বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় তিনি একটি চিলীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সঙ্গে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চিলির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর, বহুমাত্রিক ও অর্থবহ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন