প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে প্রবল বর্ষণের পর বিশাল আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কোনাক্রির গিবেসেয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গিনির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপটি এতটাই বিশাল ছিল যে, ধসে পড়লে অনায়াসে একটি বহুতল ভবন চাপা দিতে পারে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় আবর্জনার বিশাল স্তূপটি হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই এর নিচে চাপা পড়েন আশপাশে থাকা বহু মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চাপা পড়াদের উদ্ধারে এক্সকেভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরে দিয়োলো জানান, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় তিনি তার পাঁচ সন্তানকেই হারিয়েছেন। শোকাহত সিরে বলেন, ‘আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। ঈশ্বরের ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।’
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ওই আবর্জনার স্তূপটি ধসে পড়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ বিপর্যয়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী বাহিনী। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও গিনি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত দিক থেকে বিশ্বের পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটি। দেশটিতে বক্সাইটের বিশাল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে উল্লেখযোগ্য লৌহ আকরিকের ভাণ্ডার। তবে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের বিপরীতে দেশটির নগর ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো এখনো নানা সংকটে জর্জরিত।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গিনির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। রাজধানী কোনাক্রির এই দুর্ঘটনা দেশটির দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর অবকাঠামোর সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন