প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতির অভিযোগে করা দুর্নীতির ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাগুলোর অন্য আসামিদেরও খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ১৮টি সরকারি বাড়ি বিনা দরপত্রে বিক্রি এবং এতে সরকারের বিপুল অর্থের ক্ষতি করার অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে সব কটি মামলায় আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন- এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।
এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে একটি মামলায় এবং আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি মামলায় আসামি করা হয়। পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে। রায়ে তারাও সবাই খালাস পেয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়। অভিযোগ ছিল, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে এসব বাড়ি বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি দর বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যের দরপত্রের ভিত্তিতে বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ করে দুদক।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাগুলোর তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত মির্জা আব্বাসসহ সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন