বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আকস্মিক বন্যায় নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ ১ হাজার ৩৮৪, মৃত ১৬৫

ছবি: সংগৃহীত

ভোতি কোশি নদীর পানির আকস্মিক স্রোতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারা। এদিকে বন্যার পর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান জোরদার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপাল ও তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নেপালের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্যার ভয়াবহতায় রাসুয়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। এসব স্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে নিখোঁজদের সন্ধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ নতুন করে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, ভোতি কোশি নদীর হড়পা বানে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং জেলায় ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। বন্যার স্রোতে সৃষ্ট কাদা, পাথর ও আবর্জনার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজদের সবাই গিরং জেলার বলে জানিয়েছে সিসিটিভি। ভোতি কোশি নদীর প্রবল স্রোত ও হড়পা বানের মূল আঘাত এই জেলার ওপর দিয়েই গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইকৃত ভিডিওগুলোতে বন্যার ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পানির প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের তোড়ে বহু মানুষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। নদীর ভাটির দিকে সেই স্রোত নেপালে গিয়ে বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্ত্রীকে হারিয়েছেন নেপালের ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কেশব রয়টার্সকে বলেন, হঠাৎ করে বিশাল কাদার স্রোত তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে প্রবল স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

প্রায় চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে বাড়ির ছাদ থেকে কেশবকে উদ্ধার করে। কিন্তু তখনও তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সকে কেশব বলেন, তার স্ত্রী এখনো কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন। তাকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপই এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় এই আকস্মিক বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন