বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই প্রবাসীসহ নিহত ৩

ছবি; সংগৃহিত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই সৌদি আরব প্রবাসীসহ তিন যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে অপর দুজনের মৃত্যু হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক সৌদি আরব প্রবাসী চয়ন মোল্লা (২৩) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের হাসনহাটি গ্রামের দলিল উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি গত ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী একই গ্রামের দুই যুবক সিয়াম মোল্লা (২৩) ও নয়ন হোসেন (২১) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।সেখানে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে তাদের মৃত্যু হয়।
সিয়াম মোল্লাও একজন সৌদি প্রবাসী। তিনি গত ২০ দিন আগে দেশে আসেন। তিনি হাসনহাটি গ্রামের আজগর মোল্লার ছেলে। নয়ন হোসেন একই গ্রামের এনায়েত হোসেনের ছেলে। নয়ন কয়েক মাস কুর্দিস্তানে ছিলেন। এরপর প্রায় এক বছর আগে দেশে এসে নগরকান্দা এলাকায় একটি কুরিয়ার কোম্পানিতে মোটরসাইকেলে কুরিয়ার ডেলিভারির কাজ করতেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চালক চয়ন মোল্লা দুই আরোহী সিয়াম ও নয়নকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া থেকে শনিবার বিকেলে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকা ঘুরতে এসেছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মোটরসাইকেলের আহত দুই আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নেওয়ার পথে কেরানীগঞ্জ এলাকায় সিয়াম মোল্লা ও নয়ন হোসেনের মৃত্যু হয়।
লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও হাসনহাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন,কাল রাতে চয়নের জানাজা হয়। আজ সকালে নয়ন ও সিয়ামের মরদেহ গ্রামে আনা হয়।সকাল দশটার দিকে তাদের দুজনের জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই তিনজন কাছাকাছি বয়সের হওয়ায় একই সাথে ঘোরাফেরা করতো। বন্ধুর মতো ছিল। এরা কেউ বিয়েও করেনি। একসাথে তাজা তিনটি প্রাণ চলে যাওয়ায় গ্রামে শোক বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদুর রহমান জানান, অজ্ঞাত যে গাড়িটির চাপায় এ ঘটনা ঘটেছে, আমরা বাসটির সন্ধান এখনও পাইনি।এটা আমরা খোঁজ করছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন