প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৪১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাস ভাঙচুর, চালক ও স্টাফদের ওপর হামলা এবং টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেক যাত্রীকে। বাস না পেয়ে কেউ বিকল্প ছোট যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
বাস মালিক ও চালকদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট রাত ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি অটোরিকশার ওপর উল্টে পড়ে। এতে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।
এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন ঢাকা থেকে জামালপুরের দিকে আসা রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাস চালকদের অভিযোগ, বাস দুটিতে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি স্টাফদের মারধর করা হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চালক ও পরিবহনকর্মীরা।
এর প্রতিবাদে বুধবার রাতে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বাস মালিক ও চালকদের সংগঠন। এর পর বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি।
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে কর্মস্থল ও জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ বিকল্প যানবাহনের দিকে ছুটছেন। তবে সুযোগ বুঝে এসব যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
বেসরকারি চাকরিজীবী আলিফ বলেন, ‘আজ দুপুর ৩টা থেকে আমার হেড অফিসে জেলার লোকজনদের নিয়ে মিটিং রয়েছে। সকালে বাসে করে ঢাকা যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসেছিলাম। বাসে যেতে পারলে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু এসে দেখি বাস চলাচল বন্ধ। এ সময় ট্রেনও নেই। মাইক্রোবাস ভাড়া চাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। ৫০০ টাকা ভাড়ায় যাওয়ার জন্য বের হয়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে যাওয়া তো সম্ভব নয়। আমার মতো আরও অনেক যাত্রী এখানে আটকে আছেন। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি।’
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর রাজীব পরিবহনের বাসগুলোর বেপরোয়া চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে। জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কে রাজীব পরিবহনের বাসের অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে বাস মালিক ও চালকদের বক্তব্য, কোনো চালক ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটান না। দুর্ঘটনার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবহনকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘লোকজন আমাদের গাড়ি ভাঙছে, চালকদের মারধর করছে। কোনো চালক ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটান না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ থাকবে।’
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলব। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে।’
এদিকে, জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বাস মালিকদের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধ, দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বাস ভাঙচুর এবং পরিবহনকর্মীদের নিরাপত্তার দাবিতে রুট বন্ধের ঘটনায় এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন