বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কমিটি-বিলের রিপোর্ট নিয়ে তুমুল বিতর্ক, অধিবেশন কক্ষ ছাড়ে বিরোধী দল

ছবি; সংগৃহিত

সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিতর্ক ও ক্ষোভে উত্তপ্ত ছিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন। সংসদীয় কমিটি গঠন, কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন এবং বিভিন্ন বিলের রিপোর্ট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। কাঙ্ক্ষিত সভাপতি পদ না পাওয়ার অভিযোগে বিরোধী দলের সদস্যরা একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধীদলীয় উপনেতা সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলকে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়ে শক্তিশালী দাবি করে সরকারের পক্ষ থেকে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। একই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। 
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টায় তৃতীয় অধিবেশনে কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথমাংশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। দ্বিতীয় সেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ও বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন নিয়ে জাতীয় সংসেদ সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর শেষ মুহূর্তে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা। এর আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবেদন উত্থাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিরোধী দলের অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ রাখা হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৫ সালের গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশের চেয়ে প্রস্তাবিত আইনটি আরও শক্তিশালী। বিলের রিপোর্ট উত্থাপনের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার সরাসরি আদালতে যেতে পারবেন। গুমের বিভিন্ন ধরন সংজ্ঞায়িত করে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার এবং আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ভুক্তভোগীদের মামলা করতে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। নতুন আইনে সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা জোরপূর্বক গুমের বিচার আগের মতোই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ারে থাকবে। পাশাপাশি গুমের অন্যান্য ধরনও আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
গুমের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দায় যার ওপর বর্তাবে তার সম্পত্তি না থাকলেও সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব নেবে—এমন বিধানও রাখা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও আইনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আইন দুটি আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা উচিত, যাতে সরকারি ও বিরোধী দলের সবার অংশগ্রহণে এগুলো চূড়ান্ত করা যায়।
এরআগে বিতর্কে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাশেম (আরমান) বলেন, প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিধান কোনো সাধারণ ‘গ্যাপ’ নয়। এর মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে জবাবদিহির বাইরে থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তোমরা যা খুশি তাই করো, তোমাদের জবাবদিহিতা আনার কোনো সুযোগ আমরা রাখলাম না’—এমন একটি সংকেত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ, এর ফলে গুম, নির্যাতন বা অন্যায় করলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ থাকবে না। তিনি এটিকে ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আইনটি পাসের আগে দফাওয়ারি আলোচনার সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেওয়া হবে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি পাসের আগে সংশোধনী আনার সুযোগ রয়েছে। যৌক্তিক সংশোধনী এলে তা বিবেচনা করা হবে।
এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলো প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কয়েকটি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।
কমিটির সভাপতি নওশাদ জমির প্রতিবেদন উপস্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধী দলের সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, কমিটির আলোচনায় তারা কেন অংশ নেননি, সে বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়া হলেও তা প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। অথচ প্রতিবেদনের এক জায়গায় তাদের ‘সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের’ কথা বলা হয়েছে।
জবাবে নওশাদ জমির বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা কমিটির সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে বিস্তারিত আলোচনা শুরুর আগে তারা কক্ষ ত্যাগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটির বৈঠক থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা সম্ভবত নজিরবিহীন। বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের বক্তব্য নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে দিলে তা প্রতিবেদনে রাখা যেত।
জবাবে নাজিবুর রহমান বলেন, তারা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সেটি প্রতিবেদনে না থাকায় প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ।
বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরও তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটির বৈঠকে কে কী বলেছেন, সাধারণত তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ থাকে না। তবে ‘সক্রিয়’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি থাকলে তা বাদ দেওয়ার বিষয়টি স্পিকার বিবেচনা করতে পারেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিল পাসের আগে দফাওয়ারি আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের সংশোধিত প্রস্তাবে একজন নারী কমিশনারের পাশাপাশি একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিশন গঠনের বাছাই কমিটিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি অথবা তার মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিককে যুক্ত করার সুপারিশও করা হয়েছে। এ ছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের সময় কোনো স্থান, অফিস-আদালত, হাজতখানা বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’—এই শর্ত বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
কমিটি গঠনের পর ফ্লোর নেন বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দলের আচরণে আমাদের সংসদের থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনায় বিরোধী দলের আসন অনুপাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার থাকলেও সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। আগের দিনও এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। সেদিন কমিটি গঠন না করে চিফ হুইপ সভাপতি পদ পেতে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লোর নিলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা একে একে রেরিয়ে যান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটি গঠনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, আপনারা (বিরোধী দল) বাইরে রাজনীতি না করে সংসদে আসুন, এখানেই কথা বলি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করলে আমরা ধরে নেব যে, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সহযোগিতায় আসছেন। কিন্তু আপনারা সহযোগিতায় আসবেন না আবার এখনই পাক্কা হিস্যা চাইবেন— এই দুটি বিষয় সাংঘর্ষিক। এসময় বিরোধী জোটের শরীক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা অধিবেশন কক্ষে ছিলেন। তারা অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণার পর অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হন।
জ্বালানি সংকট উত্তরণে সরকার কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে
চলমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে সরকার পাঁচ দফা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্লোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ নেতা বলেন, দীর্ঘ দিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। কর্মপরিকল্পনাগুলো হচ্ছে— দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইসমিক জরিপ, বাপেক্স শক্তিশালীকরণ, প্রোডাশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট(পিএসসি) ও বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো সস্প্রসারণ।
জ্বালানি সংকট উত্তরণের সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান ৭টি কূপ খনন শেষ হলে আরো ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। বাপেক্স শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
এলএনজির অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৮ সালে এই টার্মিনাল হতে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি (গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করছি। ফলে আগামী ২ বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাবে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ২/১টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গত ৬ জুন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্য যেমন- সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রীম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা করে ক্রয় করবে। এই সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমেই মূলত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ, এই ছয়টি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য বর্তমান সরকারের জাতীয় বাজেট বক্তৃতা ২০২৬-২৭-এ সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই লক্ষ্যকে শুধু জিডিপির আকার বৃদ্ধির লক্ষ্য হিসেবে নয়; বরং সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের সমন্বিত রূপান্তর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের সমগ্র আকাশসীমার নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে স্বতন্ত্র রানওয়ে বা ঘাঁটি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এছাড়া অপর প্রশ্নের জবাবে দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে আধুনিকায়ন, সাইবার হামলা ও নতুন বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় দেশীয়ভাবে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন সরকারপ্রধান।
জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য। খুব স্বাভাবিকভাবে সংসদ সদস্য উনার যে কনসার্নটি এক্সপ্রেস (উদ্বেগ প্রকাশ) করেছেন, অবশ্যই আমরা দেশে যেই সমস্যাটি আছে জ্বালানির, এটিকে যেরকম আমরা সমাধান করতে চাইছি, আমাদের দেশে ফুলবাড়িতে যে কয়লার কথা উনি বলেছেন, সেই কয়লা পৃথিবীর যে সব সবচেয়ে ভালো কয়লা আছে তার মধ্যে একটি। কাজেই আমরা এই কয়লাটিকে উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি অবশ্যই সেটা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা যেরকম সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদন বিষয়ে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু বসতবাড়ি আছে, সেখানে কৃষি জমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য, অবশ্যই সবচেয়ে আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সেই মানুষগুলোকে আগে স্থানান্তর করা যায়। তাদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে, তাদের যাতে আয় রোজগার বন্ধ না হয় বরং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে প্রকল্প থেকেও যাতে তারা কোনো না কোনোভাবে লাভবান হতে পারে, সেই সব ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেই এবং অবশ্যই পরিবেশের যে বিষয়টি আছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তা যাতে আর না হয়—এ জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
অধিবেশনে দেশের চলমান বিদ্যুৎ-সংকট সম্পর্কিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো চালু করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষকে চলতি সময়ের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে আমরা আশাবাদী। 
তিনি আরো বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য-সংকটও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য-সংকট সামনে আসে, যার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও সংকট তৈরি করেছে। 
তিনি বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি—তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।
বর্তমান বিদ্যুৎ-সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার তথ্য উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।
ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফেকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে প্রায় ২১-২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে এ সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিএনপি কোনো বট বাহিনী চালায় না
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। এ কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের তথ্য তুলনামূলকভাবে কম। অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এর সম্পূরক প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো বট বাহিনী চালায় না। যার কারণে বিএনপির ছয় মাসের ৬০টি।  অন্যান্য দলের যেই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে করি এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য শুধু ম্যানুয়াল নয়, আমরা অটোমেটেডভাবে ফ্যাক্ট চেকিং করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। শিগগিরই এই বিষয়ে আমরা সংসদকে অবহিত করতে পারব বলে আশা করি।
এর আগে বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানো অপতথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক নিউজের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র অভিযোগ করা যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট মিডিয়া যারা চালায়, তারা অনলাইন মিডিয়ার দিকে আক্রমণ করে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ালেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। যেহেতু কেবল প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, এই বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল যেটি রয়েছে, সেটিকে যুগোপযোগী করা হবে কি না? এবং অনলাইন ভার্সনে কাউকে যদি ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়, যেমন আমি এই সংসদে মিডিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক কথা বলার পরে ৪৮ ঘণ্টায় আমার বিরুদ্ধে ১০৯টি উদ্দেশ্যমূলক নিউজ করানো হয়েছে। এখন প্রেস কাউন্সিলে সেটি নিয়ে অভিযোগ দেওয়া যায়নি। কারণ এগুলো যেহেতু প্রিন্ট মিডিয়ায় আসেনি। তো আজকে আপনার কাছে প্রশ্ন, বিরোধী দলকে টার্গেট করে এভাবে যে অপতথ্য সবসময় করে যাওয়া হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা প্রেস কাউন্সিলে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি এবং এই আইনটি সংশোধন করা হবে কি না।
জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিস্তারিত বলতে গেলে একটি নোটিশের প্রয়োজন। তারপরও আমি একটু বলতে চাই, যদি শুধু বিরোধীদলীয় সদস্যদের আক্রমণ করা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের মা-বোনদেরকেও আক্রমণ করা হচ্ছে। আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দলের সদস্যদেরকেও এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। সুন্দরভাবে প্রেস কাউন্সিল গঠন করা হবে এবং আপনি যেই অনলাইনের কথা বলেছেন, সেটাও আমাদের বিবেচনার মধ্যে আছে। আমরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে।
অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেই বিষয়ে অন্যান্য দেশে কী কী পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেছে, সেই বিষয়ে আমরা বিবেচনা করছি। আমরা এই বিষয়ে কনসালটেশন করছি। আমরা একটি সুন্দর কাঠামো দাঁড় করাতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ার উদ্যোগ
সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তের জন্য সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তুলেছে। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিক কার্যরত রয়েছে। এ কমিটির দিকনির্দেশনায় প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মনিটর করে থাকে। অপতথ্য ও গুজব দ্রুত শনাক্ত করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যসংবলিত সরকারি ‘ফ্যাক্টচেক’ বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি তথ্য অধিদফতর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলোর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় বলেও জানানো হয়।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। এছাড়া সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রচারণা ও অপতথ্য প্রচার করে এমন ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এমন ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন, রিল ও ভিডিও প্রকাশ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
দশটি সংসদীয় কমিটি গঠন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমানকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। সেলিমা রহমানকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভপতি করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
সেলিম ভুইয়াকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কলিম উদ্দিন আহমেদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আমান উল্লাহ আমানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, হুইপ জিকে গউছকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, নাসের রহমানকে ভুমি মন্ত্রণালয় এবং রফিকুল ইসলাম জামালকে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির প্রস্তাবক্রমে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো গঠন করা হয়।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন