প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কানাডার সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে কানাডিয়ান বিশেষায়িত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বৃহৎ তেল শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কানাডার লাসাল-এমার্ড-ভার্দ্যাঁ আসনের সংসদ সদস্য এবং জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব ক্লদ গুয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মেয়র এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে চট্টগ্রামের জ্বালানি সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রামে একটি কানাডীয় বিশেষায়িত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আওতায় চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ও বৃহৎ তেল শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে আলোচনা হয়।
এছাড়া, কানাডা থেকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক সক্ষমতাকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বৈঠকে উঠে আসে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কানাডার মতো জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ একটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা গেলে তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু চট্টগ্রামের জন্য একটি প্রকল্প করা নয়। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে এমন একটি জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করা, যা বাংলাদেশের শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
মেয়র আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। তাই প্রস্তাবিত উদ্যোগটি শুধু চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোনো প্রকল্প নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনার কারণ হিসেবে এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে ভূমিকা এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রস্তাবিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভবিষ্যতে শোধনাগারের পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণ অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবা এবং অন্যান্য জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বৈঠকে পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জ্বালানি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে প্রস্তাবিত কানাডীয় বিশেষায়িত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল বর্তমানে আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ হিসেবে রয়েছে। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তব কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন