বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০১:১৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনা

সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের বাড়িতে শোকের মাতম, চলছে দাফনের প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে স্বজনেরা ছুটে এসে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রিয়জনকে আকস্মিকভাবে হারানোর শোক যেন কোনো সান্ত্বনাতেই কমছে না।

নিহত তাসনিম রিফায়াত পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল হকের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন রিফায়াত। আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে তার। ছোট্ট মেয়েটি রাফতা তাসলিম ইকরা এখনো বুঝতেই পারছে না, বাবাকে আর কোনোদিন ফিরে পাবে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বজনরা জানান, কারিগরি শিক্ষা থেকে এসএসসি পাস করার পর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন রিফায়াত। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পান তিনি। এরপর পেশাগত জীবনের প্রায় এক দশক দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। কর্মজীবনের মাঝপথে এভাবে তার আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

রিফায়াতের ভাই দিপ্ত জানান, চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ রাজশাহীতে আনা হবে। এতে দুপুর হয়ে যেতে পারে। মরদেহ পৌঁছানোর পর গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এরই মধ্যে কবর খননসহ দাফনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। রিফায়াত ছিল মেজ ছেলে। চাওয়ার কিছু নেই, সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’

স্বজনরা জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই রিফায়াতের মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বিন্দারামপুর গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মরদেহের অপেক্ষায় থাকা পরিবার এরই মধ্যে কবর খননসহ দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। প্রিয়জনের শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় এখন ভারী হয়ে আছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন