প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও সিসিটিসহ বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে শ্রমিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে বন্দর রক্ষা কমিটির সভায় এ কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কমিটির অন্যতম সদস্য তপন দত্তের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বিভাগীয় কমিটির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন এবং জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ কমিটির নেতারা। সভা সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
সভায় সম্প্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রীর এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে—এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের আগে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি, কর্মসংস্থান এবং বন্দরের নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা বলেন, দেশের স্বার্থের চেয়ে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বর্তমান বিএনপি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বৃদ্ধির নামে এমন কোনো চুক্তি করা উচিত নয়, যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বক্তারা আরও বলেন, এনসিটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের জনগণ, বন্দর ব্যবহারকারী, শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত, আর্থিক সুবিধা-অসুবিধা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
সভা থেকে ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৪ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ মিছিলকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। চট্টগ্রামবাসীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে জাতীয় স্বার্থে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন