বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ৭৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা

ছবি; সংগৃহিত

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুরবস্থা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে ধুঁকছে রাজধানীবাসীর প্রিয় বিনোদনস্থল ধানমন্ডি লেক। দীর্ঘদিনের এই সংকট কাটিয়ে লেকটিকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনাত এবং আশপাশের এলাকায় পরিবেশবান্ধব বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তৃত সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।বরাদ্দকৃত মোট অর্থের মধ্যে লেক সংস্কার ও অবকাঠামো নির্মাণে খরচ হবে ৫০ কোটি টাকা, বাকি ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নজরুল সরোবর নির্মাণে—যা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নামেও পরিচিতি পাবে। 
প্রায় ৮৬ একর আয়তনের ধানমন্ডি লেকের মধ্যে জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৫৫ একর। পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশ হিসেবে টিকে থাকা এই জলাভূমিকে কেন্দ্র করে গত শতকের ষাটের দশকে গড়ে তোলা হয়েছিল লেকটি। এরপর ধীরে ধীরে সময়ের পরিক্রমায় এটি পরিণত হয় রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ এলাকা ও প্রাণবন্ত বিনোদনকেন্দ্রে। রাজধানীর এই ফুসফুসে প্রতিদিন ছুটে আসেন হাজারো নগরবাসী প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে।
দীর্ঘদিন ধরে লেক ও আশপাশের এলাকা ভুগছে জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর সমস্যায়। এমনকি সামান্য বৃষ্টিতেই লেকের বিভিন্ন অংশ এবং পার্শ্ববর্তী রবীন্দ্র সরোবর এলাকা তলিয়ে যায় পানিতে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসব দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে, তেমনি লেকটিকে করে তোলা হবে আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন। সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে লেকের পাড় সংরক্ষণ, ঢাল মজবুত করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং হাঁটার পথ মেরামতের কাজ করা হবে। এর পাশাপাশি নতুন করে বসানো হবে আলোকসজ্জা, সীমানাপ্রাচীর এবং নিরাপত্তা রেলিংও সংস্কার ও উন্নত করা হবে।
এই পরিকল্পনার আওতায় থাকবে তিনটি ভাসমান ডেক, বিভিন্ন কিয়স্ক, একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম, লাইব্রেরি ও প্রদর্শনী গ্যালারি, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুক্ত মঞ্চ বা অ্যাম্ফিথিয়েটার, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, খোলা জায়গায় শরীরচর্চার ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা।
লেকের আশপাশের গাছপালার নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই থেকে সুরক্ষায় বিশেষায়িত একটি ‘ট্রি হাসপাতাল’ গড়ে তোলারও পরিকল্পনা করেছে সিটি কর্পোরেশন। এর পাশাপাশি স্থাপন করা হবে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আধুনিক দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড ও পথনির্দেশনা ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম।
সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হবে নজরুল সরোবর। ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়ক সংলগ্ন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ঠিক মুখোমুখি ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হবে এই সাংস্কৃতিক পরিসরটি।
প্রস্তাবিত এই স্থাপনায় নজরুলসংগীত পরিবেশনা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য থাকবে একটি উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সুবিধার্থে রাখা হবে একটি গ্রিনরুমও।
এ ছাড়া থাকবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রিয় খাবারের পসরা সাজিয়ে একটি রেস্তোরাঁ, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার এবং তার জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর তথ্যফলক স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব তথ্যফলকে স্থান পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও।
কবির বিদ্রোহী চেতনা ও সাহিত্যকর্মকে ধারণ করে গড়ে তোলা হবে একটি বুক কর্নার, পাশাপাশি নির্মিত হবে নগর বন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্লাজা। লেকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য থাকবে একটি ঘাট, এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে তৈরি হবে পৃথক হাঁটার পথ।
এই স্থাপনার মূল লক্ষ্য নজরুল-সাহিত্যের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি উপযুক্ত পরিসর গড়ে তোলা। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এটি কবির সাহিত্যকর্ম প্রচারেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে ৭৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। 
তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, লেকের তলদেশ পরিষ্কারের কাজ শুরুর আগে একটি পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই একযোগে শুরু হবে লেকের তলদেশ পরিষ্কার, ধানমন্ডি লেক সংস্কার এবং নজরুল সরোবর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন