প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক কিশোর গ্যাং লিডারকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার কিশোর গ্যাং পাটালি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে চুল কাটাতে যান তিনি। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে কালা সোহেল, সাগর, হাবিব ও আরমানসহ বেশ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকাতেই থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান নেই।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরমান শাহরুখ গ্রুপ এবং পাটালি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। কিছুদিন আগে রায়েরবাজার এলাকায় পাটালি গ্রুপের লোকজন আরমান শাহরুখ গ্রুপের শাহরুখকে কুপিয়ে আহত করে। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকে শাহরুখকে গ্রেফতার করে র্যাব। রায়েরবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। নিহত ফরহাদ হোসেনের নামে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেই সে জেল থেকে জামিনে বের হয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর সহ অন্যান্য থানা একাধিক মামলা রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন