প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নাট্যাঙ্গনের তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক ও স্মৃতিচারণ প্রকাশ করেছেন বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীরা।
ঢালিউড চিত্রনায়িকা সুনেরাহ বিনতে কামাল নিজের স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে লেখেন, ‘সেইদিনই দেখা করে গেলেন। আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলেন, বললেন আমরা একসাথে সুন্দর গল্প করব। কালকেই ভাবছিলাম আপনার কথা। জীবন কি অনিশ্চিত ভাইয়া। মারুফ হোসেন সজীবের আত্মার শান্তি কামনা করি, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লেখেন, ‘আমাদের সকলের প্রিয় নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।’
গভীর শোক প্রকাশ করে অভিনেত্রী সাফা কবির লেখেন, ‘কিছু মানুষের মৃত্যু আপনাকে এতটাই স্তব্ধ করে দেয় যে আপনি অসহায় হয়ে পড়েন। আপনার সম্পর্কে লেখার মতো সাহস বা শব্দ কোনোটাই এখনো খুঁজে পাচ্ছি না। আমার এখনো মনে আছে, যেদিন আপনি আপনার সেরা ছয়টি চিত্রনাট্য নিয়ে আমার কাছে এসে বলেছিলেন, “আপু, এই ছয়টি চিত্রনাট্য আপনার। আমরা একটি দিয়ে শুরু করব, তারপর ধীরে ধীরে ছয়টিই শেষ করব একসাথে।” আপনার প্রথম চিত্রনাট্য পড়েই আমি আপনার লেখার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি আপনাকে বলেছিলাম, “আপনি অসাধারণ একজন লেখক, ভাইয়া। সুন্দর কাজ করার জন্য আমাদের সুন্দর চিত্রনাট্য খুব দরকার।” আর সেই দিনগুলো যখন আপনি শুধু হাতে চকলেট নিয়ে আমার শুটিং সেটে এসে বলতেন, “অনেকদিন দেখা হয় না আপু, তাই দেখা করতে এলাম।”’
তিনি আরও লেখেন, ‘আপনি আর কখনো আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন না এটা আমি কীভাবে মেনে নেব? সেই সুন্দর হাসির মানুষটিকে আর কখনো দেখতে পাব না, এটা কীভাবে মেনে নেব? আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানটি দান করেন এবং আপনার পরিবারকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করেন। সজীব ভাই, আপনি সারাজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’
চিত্রনাট্যকারের প্রয়াণে বিষাদগ্রস্ত হয়ে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লেখেন, ‘আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন একটা খারাপ খবর পাব, সত্যি বলতে একদমই আশা করিনি। নিউজটা পাওয়ার পর কীভাবে প্রসেস করব, সেটাই বুঝতে আমার প্রায় পনেরো–বিশ মিনিট লেগে গেছে। অনেকক্ষণ থমকে ছিলাম। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে মারুফ হোসেন সজীব ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। অথচ সেদিনই তো কথা হলো। সামনে কাজ হবে, দেখা হবে, কত স্বাভাবিক কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল আমাদের কথায়। অথচ জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, কতটা ছোট, মৃত্যু আবারও খুব নির্মমভাবে সেটা মনে করিয়ে দিল।’
তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘আমরা প্রতিদিন কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আগামীকাল কী করব, পরের সপ্তাহে কোথায় যাব, কার সঙ্গে দেখা হবে, এসব নিয়েই আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা। অথচ কখন যে কার জীবনের শেষ দিন, সেটা আমরা কেউ জানি না। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লেখেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, এমন একটি খবর নিয়ে আমাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই তার কাছেই ফিরে যাব। মারুফ হোসাইন সজীব ভাই মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছিলেন। মঞ্চ থেকে নামার পর আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। সেদিন রাতে পুরস্কার অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গেই বসেছিলাম।’
মেসেঞ্জারের কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আজ সকালে মেসেঞ্জার খুলে দেখি, তিনি আমাকে দুই-তিনটি মেসেজ পাঠিয়েছেন। তখনও আমি সেগুলোর কোনো উত্তর দিতে পারিনি। তিনি লিখেছিলেন, “আপু, কেমন আছেন? আপনি এখন আর নাটকে অভিনয় করেন না কেন? আমি আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই।” আর আজ আমি বুকভরা কষ্ট নিয়ে সেই কথাগুলোই আবার পড়ছি। জীবন সত্যিই খুব ছোট। আমরা নিজেদের জীবন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে, আমাদের প্রিয় বা গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলোর খোঁজ নেওয়াটাই অনেক সময় ভুলে যাই। তারপর হঠাৎ করেই শুনি কেউ আর নেই। যে মানুষটির সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও কথা হচ্ছিল, তিনি আর এই পৃথিবীতে নেই। আমি জানি না, কী বলব। আল্লাহ যেন সজীব ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার প্রিয়জনদের এই শোক ও ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন। হয়তো এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য আমরা এখানে খুব অল্প সময়ের জন্যই এসেছি। তাই যতদিন আমরা বেঁচে আছি, আমাদের আপন মানুষদের ভালোবাসি, তাদের খোঁজ নিই এবং তারা আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তাদের জানাই। কারণ কখনো কখনো ‘আগামীকাল’ আর আসে না।’
শোকে ভেঙে পড়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশা লেখেন, ‘ভাইয়া আপনি ফোন দিয়ে বললেন, “কতদিন দেখা নেই আপু, কত গল্প জমে আছে! সুন্দর সুন্দর গল্প করতে হবে আপু আমাদের। খুব তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টে এসে দেখা করব” দেখে গেলেন না ভাইয়া? গল্পগুলো বলে গেলেন না? গল্পগুলো না বলেই চলে গেলেন। কি বলব কি বলা উচিত জানি না মারুফ হোসেন সজীব।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন