প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৫৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন বাহিনী ওই দুই ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি জাহাজে সরাসরি মার্কিন হামলার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এক্সিওস জানায়, এর আগে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দিলেও সরাসরি হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্যাংকারের বদলে ট্যাংকার’ নীতির অনুমোদন দিয়েছেন। নতুন এই নীতির অর্থ হলো- ইরান কোনো ট্যাংকারে হামলা চালালে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
মার্কিন বাহিনীর হামলার শিকার দুটি ট্যাংকার ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ-অবরোধের উত্তরে অবস্থান করছিল। এ সময় ট্যাংকার দুটির ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় জাহাজ দুটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন ট্যাংকার ও সেনাদের ওপর চালানো হামলার জবাব হিসেবেই ইরানি ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে তাদের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে জন্য ব্যাপক সামরিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্যাংকারে হামলাকে সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দেখছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতেই ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ১০০টি হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মার্কিন বাহিনী সামরিক অভিযান জোরদার করেছে বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন।
ইরানি তেলবাহী জাহাজে সরাসরি মার্কিন হামলার ঘটনা চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন