প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৮:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাসহ বিভিন্ন কারণে ১৫২২ জন পুলিশ সদস্য চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। চাকরিচ্যুতির দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুনর্বহাল না হওয়ার কারণে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগী পুলিশ পরিবাররা।ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারিয়েছিলেন তারা। দীর্ঘ কর্মহীনতায় ভুক্তভোগী সদস্যরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আগামী ২৭ জুলাই ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য ও পরিবার গুলশানে মানববন্ধনের আয়োজন করবেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য ইকবাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, চাকরি হারিয়ে আমরা অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছি। বর্তমানে রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিছুদিন আগে আমার মতো একজন রাইড শেয়ারিং করতে গিয়ে দুই পা হারিয়েছেন। কেউবা এলাকায় গিয়ে কৃষিকাজ বা দিনমজুরের কাজ করে জীবন যাপন করছেন। আমরা সরকারের কাছে মানবিক আবেদন করছি।
চাকরিচ্যুত অপর এক কর্মকর্তা মামুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, চাকরিচ্যুতির ফলে ১৫২২টি পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে। আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতেও তারা চরম ব্যর্থ হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বেকার থাকায় এসব পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বিগত সরকারের সময় কোনো সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এই দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশ সদর দপ্তর আবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল, তবুও আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে অনেককে পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবিক বিবেচনায় পুনর্বহালের আদেশ দিলেও বিভিন্ন রহস্যময় ও অস্পষ্ট কারণে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একজন ডিআইজির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যারা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বা বিভাগীয় আপিলে জয়ী হয়েছেন, তাদের পুনর্বহালের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে যারা কোনো আপিল করেননি বা যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে, আইনগত বা নৈতিক কারণে তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে অধিকার আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়।
বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কনস্টেবল ১ হাজার ২৫ জন, নায়েক ৭৯ জন, এএসআই/এটিএসআই ১৮০ জন, এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই ২০০ জন, ইন্সপেক্টর ১০ জন এবং নন-পুলিশ সদস্য ২৮ জন রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন