প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত, সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সম্মেলনে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কাস্টমস, রাজস্ব ব্যবস্থার এই তিনটি প্রধান শাখাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। এতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, করজাল সম্প্রসারণ, করদাতাবান্ধব প্রশাসন এবং আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের ধারণা, এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির উপস্থিতি থাকবে।
সম্মেলন সফল করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে এনবিআর। সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে এ কমিটির সভাপতি এবং কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট উদ্বোধনের পর রাজস্ব সংগ্রহ ও করজাল সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক স্টল সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম ও রাজস্ব আদায় সম্পর্কে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি সংস্থাটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজস্ব ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকও সেখানে তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেবেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দিনব্যাপী দেশের ইতিহাসে প্রথম রাজস্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।
প্রথম সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, করজাল সম্প্রসারণ, করদাতাবান্ধব প্রশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এতে এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ওই সম্মেলনে নতুন করদাতা শনাক্ত, কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ই-রিটার্ন, অনলাইন টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধন, ই-পেমেন্ট, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা, কাস্টমস অটোমেশন, তথ্য বিনিময় এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা রাজস্ব আদায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জ, জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আইনি জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা কর আইন সহজ করা, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ এবং করদাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
এবার দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে এবারের সম্মেলন থেকে রাজস্ব ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন