বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান, করলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এর আগেও গণমাধ্যমকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কেউ যদি শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন, এমন ঘোষণা দিয়ে তা প্রচার বা সম্প্রচার করে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে। আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে নিজের ব্যক্তিগত মত তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আদালতের নির্দেশনা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকত না। কেউ আদালতের আদেশের সঙ্গে একমত না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় সবাইকে তা মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়েও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ তিনি পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে।

সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। তার প্রতি সমর্থন থাকা ব্যক্তি বা অতীতের সুবিধাভোগীরা বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ মুহূর্তে কারা কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই।

বেনজীরের জামিনের তথ্য পেতে দেরি কেন, জানেন না উপদেষ্টা

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি তিনি।

বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়ে কেন এমন ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করা সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ এখনো রয়েছেন। তাদের সবাইকে একসঙ্গে সরিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করাও বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে।

সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনছে জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না যাতে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন