বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ১২:৩৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ফেনীর ডা. আশরাফ ফিসারিজের জাতীয় পদক লাভ

ছবি; সংগৃহিত

 অজপাড়াগাঁয়ে গড়ে ওঠা ডা. আশরাফ ফিসারিজ এখন বেকার যুবক ও উদ্যোক্তাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। ২৬ বছর আগে শখের বসে শুরু করা খামার কেবল আর্থিক সফলতাই নয় বরং এখন দেশ সেরা হয়ে অর্জন করেছে জাতীয় স্বর্ণ পদক। ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুরে ‘ডা. আশরাফ ফিসারিজ’ নামে মাছের খামার শুরু করেন ওই গ্রামের মোহাম্মদ নুর নবী মিয়া ও ফাতেমা রওশন আফরোজ এর চিকিৎসক ছেলে মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবার জাতীয় মৎস্য পদক পেয়ে চমকে দিয়েছেন সহকর্মী, বন্ধু-স্বজনসহ দেশবাসীকে।
গত ১৬ আগষ্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে পদক তুলে দেন। চিকিৎসা পেশায় সুনাম অর্জনের পাশাপাশি ডা. আশরাফ এবার খামারী হিসাবেও দেশ সেরা হওয়ায় খুশি গ্রামবাসিও।
দাগনভূঞা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম বাসস’কে জানান, ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের খামারটিতে সর্বাধুনিকভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিষমুক্ত নিরাপদ মাছ, গলদা চিংড়ি এন্টিবায়োটিক ছাড়া উৎপাদন করা হয়। এই খামার থেকে আশপাশের বেকার যুবক-যুবতিগণ অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরা মাছের খামার স্থাপন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তিনি গত বছরও (২০২৫ সাল) সফল মৎস্য চাষী হিসেবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কারে ভূষিত হন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাছান বাসস’কে জানান, ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পরামর্শে মাছ চাষ করে থাকেন। এই খামারের প্রাকৃতিক উৎস হালদা নদী থেকে রেণু সংগ্রহ করে উত্তমভাবে মাছের পোনা ও মাছ উৎপাদন করে থাকে। এ খামার থেকে উৎপাদিত মাছ দাগনভূঞাসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ কর্মকান্ডে এ খামার যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।
ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, ২০০০ সালের দিকে শখের বসে পতিত জমিতে শুরু করা খামারটি এখন ১৭ একর জায়গা ছাড়িয়ে গেছে। ১৯টি ছোট-বড় পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, ব্লাক কার্প, কমন কার্প, কালি বাউশসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে তার খামারে ১শ’ ৯৬ মেট্টিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। সর্বমোট আয় হয়েছে ৫ কোটি ৪৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। 
এরমধ্যে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তিনি ১বছরে খামারটি থেকে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেছেন বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান।
তিনি আরো জানান, এখানে টেকনেশিয়ানসহ নিয়মিত ও অনিয়মিত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি কাজ করছেন। তার এই খামারের সম্প্রসারণে মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সব ধরনের সহায়তা পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তার বাবা-মা ও স্ত্রী ডা. হাসিনা আক্তার স্বপ্নাসহ বন্ধু স্বজন ও প্রতিবেশিরা নানাভাবে প্রেরণা যুগিয়েছে।
জাতীয় মৎস্যপদক অর্জনের সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় খামারটির পুকুর পাড়ে লাগানো বিভিন্ন প্রকারের ফলদ ও বনজ গাছ এবং শাকসবজি যেমন বাড়তি আয়ের উৎস তেমনি এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ক্রমেই দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ইমাম হাছান কচি জানান, এখানে পাইকারী ও খুচরা মাছ কেনা-বেচা ছাড়াও অনেকেই খামারটির সৌন্দর্য উপভোগে ঘুরতে আসেন। এখানে রাতের সৌন্দর্যও উপভোগ করার মতো।
জানা যায়, মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় মৎস্য পদকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন ডা. আশরাফ ফিসারিজ এর ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। রোববার কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদি আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ তার হাতে পদক তুলে দেন।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন