প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাবা হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি লিওনেল মেসি। ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যিনি ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ভরসা ও পরামর্শদাতা, সেই হোর্হে মেসিকে হারিয়ে গভীর শোকে ডুবে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে তাই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা বদলে পরিবারের সঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।
হোর্হে মেসির শেষকৃত্য হয়েছে অনেকটা নীরবতা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে। আর্জেন্টিনার রোজারিওর কাছের শহর পেরেজের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়। মেসি নিজেও সেখানে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান এবং বাবাকে সমাহিত করার পর রাতভর সমাধিক্ষেত্রে অবস্থান করেন।
শনিবার রাতে আর্জেন্টিনায় ফেরেন মেসি। ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল থেকে একটি চার্টার্ড বিমানে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের নিয়ে তিনি আর্জেন্টিনায় পৌঁছান। এরপর সরাসরি চলে যান পেরেজের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে। সেখানে তার ভাইসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন।
হোর্হে মেসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খবরও রাখা হয়েছিল কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে। মেসির মতো বিশ্বখ্যাত একজন তারকার বাবার শেষবিদায়ে সাধারণত যে ধরনের গণমাধ্যমের ভিড় কিংবা জনসমাগম দেখা যায়, এবার তার কিছুই ছিল না। অল্প কয়েকজন দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও পাঠানো হয় ফুলের তোড়া। জাতীয় দলের কয়েকজন কোচিং স্টাফও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সমাধিক্ষেত্রে মেসির পরিবারের গাড়ি প্রবেশের সময় এক দর্শনার্থীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘শক্ত থাকো লিও।’ সমাধিক্ষেত্রের পাশের একটি গেটেও একই বার্তা লেখা ব্যানার টাঙানো ছিল। রোজারিওর শীতল রাতের নীরবতায় এভাবেই বাবাকে শেষ বিদায় জানান মেসি।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবে জানিয়েছে, পুরো আয়োজনটিই ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয়। মেসির আগমন কিংবা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিস্তারিত কোনো তথ্য আগেভাগে প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় মানুষ ও গণমাধ্যমও তার পরিবারের ব্যক্তিগত সময়কে সম্মান করেছে। সমাধিক্ষেত্রে থাকা দর্শনার্থীরাও মেসির পরিবারের ছবি তোলা বা তাদের বিরক্ত করার চেষ্টা করেননি।
রোববার বিকেলে সমাধিক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে পরিবারের সঙ্গে মেসি ফিরে যান পেরেজের কাছাকাছি ফুনেস শহরের একটি সুরক্ষিত আবাসিক কমপ্লেক্সে। ধারণা করা হয়েছিল, সেখান থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। মেসি সিদ্ধান্ত নেন, ইন্টার মায়ামিতে ফেরার আগে পরিবারের সঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটাবেন।
এর ফলে তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময়ও পিছিয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহল। কারণ হোর্হে মেসি শুধু তার বাবা ছিলেন না, ছিলেন মেসির ফুটবলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। ছোটবেলা থেকেই ছেলের প্রতিভা বিকাশ, ক্লাব বদল, চুক্তি ও ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই হোর্হের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ফুটবল মাঠে মেসি যতটা আলোচিত, মাঠের বাইরে পারিবারিক জীবনে তিনি বরাবরই ব্যক্তিগত পরিসরকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। বাবার শেষ বিদায়ের সময়ও সেই ব্যক্তিগত পরিসর অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। রোজারিওর মানুষ ও স্থানীয় গণমাধ্যমও এবার সেই আবেগকে সম্মান জানিয়েছে।
বাবাকে হারানোর এই কঠিন সময়ে তাই ফুটবল থেকে কিছুটা দূরে থেকে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা ও সমবেদনার মাঝেও আপাতত তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পরিবার, আর সেই পরিবারেরই এক অপূরণীয় শূন্যতার মুখোমুখি হয়ে নিজের মতো করে শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন