বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে নিহত ২৬

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একদিনে দুই দেশে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাশিয়ার ১৫ জন এবং ইউক্রেনের ১১ জন নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ক্রাসনোদার প্রদেশের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রদেশের গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটনপল্লী আরখিপো-ওসিপোভকায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪০ জন।

একই দিনে কৃষ্ণসাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়া ও ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রুশ প্রদেশ বেলগোরোদেও ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এতে ক্রিমিয়ায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হন। বেলগোরোদে নিহত হয়েছেন আরও চারজন এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক প্রদেশের ক্রিভি রিহ জেলার একটি পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরকবাহী রুশ ড্রোনের আঘাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী ও তার আট বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।

দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ড্রোন হামলার পর পেট্রোল স্টেশনটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে সোমবার রাতে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া প্রদেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা আরও বেড়েছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা বসতি দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ক্রিমিয়ার মর্যাদা, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে বিরোধসহ দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের চার বছরের কাছাকাছি সময়ে এসে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও তীব্র হয়েছে।

 

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন