প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৮:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নোয়াখালীর হাতিয়ার বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে ধরা পড়েছে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব মাছ নিয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরলে সাইফুল মৎস্য আড়তে দুপুর পর্যন্ত তিন ধাপে নিলামে প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। জানা যায়, হাতিয়ার জেলে আব্দুর রহিম মাঝি ১৮ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। সাগরে টানা ছয় দিন অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে ফেরেন তারা। পরে মাছগুলো সাইফুল মৎস্য আড়তে নিলামে তোলা হলে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কিনে নেন। একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ-উৎসাহ দেখা যায়।
স্থানীয় জেলেরা জানান, একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় তারা উৎসাহিত হয়েছেন। সাগরে ইলিশের এমন প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে জেলেদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মাছের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্রলারের মাঝি আব্দুর রহিম বলেন, সাগরে ছয় দিন থাকার পর এত ইলিশ একসঙ্গে পেয়েছি। মাছ ভালো পাওয়ায় আমরা সবাই খুব খুশি। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার খরচ ও শ্রমের পর ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সামনে আরও ভালো মাছ পাওয়ার আশা করছি।
সাইফুল মৎস্য আড়তের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে ট্রলারটি ঘাটে আসার পর বিপুল পরিমাণ ইলিশ দেখে সবাই খুশি হয়েছে। মাছগুলো তিন ধাপে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় ৬০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ টাকার মতো। মৌসুমে একসঙ্গে এত মাছ আসায় ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী।
চেয়ারম্যান ঘাটের ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, একসঙ্গে এত ইলিশ আসায় ঘাটে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়ায় জেলেদের পাশাপাশি আড়তদার ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। সাগরে ইলিশের এমন উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে মাছের সরবরাহ বাড়বে এবং ব্যবসায়ও গতি আসবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশের প্রাপ্যতা ভালো থাকায় জেলেরা আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন। একটি ট্রলারে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ পাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আনন্দের। তবে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়াতে সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ ধরার পাশাপাশি জাটকা সংরক্ষণ ও নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন