ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বিয়ে শেষে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, বর-কনেসহ নিহত ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৯:৫৫ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, চার নাতি, নববধূ ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার পর চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাধারা/এসআর