প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৪:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জেলার চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় তিন বছর বয়সী শিশু পুষ্প, সে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলামের ছেলে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, নিহত দুই শিশুর পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে সড়ক, কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানির উচ্চতা ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন