বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৩:০৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবুজায়নের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

সবুজায়নকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টি মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সেই উপকার ভোগ করার পাশাপাশি প্রকৃতির যত্ন নেওয়াও মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের নিরাপত্তার সঙ্গে মানবসমাজের টিকে থাকা ও উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে আজকের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সবাই কমবেশি জানেন, একটি সবুজ পরিবেশই সুস্থ জীবনের ভিত্তি। তাই প্রতিটি নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, "একটি শিশুর পাশাপাশি একটি গাছও বড় হয়ে উঠুক। এভাবেই দেশে সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।"

পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ পরিবেশের জন্য উপযোগী- তা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি দ্রুত বর্ধনশীল ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি প্রজাতির গাছের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি দেশীয় প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধি, বাঁশজাতীয়, অর্কিড, অর্থকরী এবং বিলুপ্তপ্রায় গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নতুন গাছ রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো গাছ সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, এটি আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও জনজীবনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

তিনি জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাও সহজ হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। নগর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং **রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (৩আর)** নীতির বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও। সবাইকে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবার ও দেশের পরিবেশও সুস্থ রাখুন।"

 


বাংলাধারা/শারমিন
 

মন্তব্য করুন