প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:০২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিজের তৈরি বিমানে ডানা ভাসালেন সদরপুরের মারুফ

এস.এম আকাশ, ফরিদপুর:

মানিকগঞ্জের উদ্ভাবক জুলহাসের পর এবার ফরিদপুরের সদরপুরে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে এক আসন বিশিষ্ট ছোট একটি বিমান তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মারুফ মোল্যা নামে এক যুবক। শুধু তৈরিই নয়, সম্প্রতি সেই বিমানে চড়ে সফলভাবে আকাশে ডানা মেলেছেন তিনি।
এক সময়ে যার আর্থিক টানাপোড়েনের নিষ্ঠুর চাবুকে  পড়াশোনার দৌড় থেমে গিয়েছিল এসএসসির গণ্ডিতেই, তিনিই আজ মেঘের দেশে নিজের তৈরি বিমানের ডানা ভাসালেন। সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরচলা গ্রামের এই যুবকের আকাশে ওড়ার খবর ছড়িয়ে পরলে  দূর-দূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন তাঁর বাড়িতে। শুরুতে যাঁরা এই উদ্যোগকে পাগলামি বলে উপহাস করেছিলেন, তাঁরাই এখন মারুফের কৃতিত্বে বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ।
মারুফের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে টানা সাত মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি আর ইন্টারনেটের অপার দুনিয়া। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষা না থাকায় মারুফের একমাত্র ভরসা ছিল ইউটিউব। দিন-রাত এক করে বিদেশি সব ভিডিও ঘেঁটে, খুচরা যন্ত্রাংশ জোগাড় করে মাত্র দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি এই বিমানটি দাঁড় করিয়েছেন। সম্প্রতি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে প্রথমবার খুব বেশি উঁচুতে উঠতে না পারলেও, চাকা মাটি ছেড়ে শূন্যে ভাসতেই নিজের স্বপ্নপূরণের মহাসড়ক খুঁজে পেয়েছেন এই তরুণ উদ্ভাবক।
অবশ্য মারুফের আকাশে ওড়ার পথে এটিই প্রথম চমক নয়। এর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের প্যারাগ্লাইডিং করতে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে, গত বছর মাত্র এক লাখ টাকা খরচে নিজে একটি প্যারাগ্লাইডার বানিয়ে সফলভাবে আকাশে উড়েছিলেন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের এক উদ্ভাবক জুলহাসের তৈরি বিমান দেখে নিজের আস্ত বিমান বানানোর জেদ চেপে বসে তাঁর মাথায়।
প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পর প্রথমদিকের কয়েকটি উড্ডয়ন প্রচেষ্টায় চরমভাবে ব্যর্থ হন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র মারুফ নন। মানিকগঞ্জ থেকে সেই গুণী উদ্ভাবক জুলহাসকে নিজের গ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়ে আনেন তিনি। জুলহাস মারুফের তৈরি বিমানের কিছু সূক্ষ্ম কারিগরি ত্রুটি ধরিয়ে দেন। সেই অভিজ্ঞ পরামর্শ ও চেনা মেকানিকসের ব্যাকরণ কাজে লাগিয়েই অবশেষে চূড়ান্ত সফলতা পান মারুফ—আকাশের বুক চিরে উড়ে চলে তাঁর স্বপ্ন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মারুফ মোল্যা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশে ওড়ার। বিদেশ থেকে একটা প্যারাগ্লাইডার আনতে যেখানে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা লাগে, সেখানে আমি মাত্র এক লাখে তা বানিয়েছি। সরকারি সহায়তা আর একটু ভালো কারিগরি প্রশিক্ষণ পেলে আমি ভবিষ্যতে আরও অনেক উন্নত ও নিরাপদ বিমান তৈরি করতে পারব।
চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান,  মারুফের এই অসাধারণ মেধাকে যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়, তবে এই তরুণ শুধু সদরপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

মন্তব্য করুন