বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১২:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

স্মরণে হুমায়ূন আহমেদ

বর্ষার দিনে ফিরে আসে এক অমলিন নাম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হুমায়ূন আহমেদ। বৃষ্টি, জোছনা, প্রকৃতি আর মানুষের সহজ-সরল জীবনকে অসাধারণ মমতায় তুলে ধরা এই কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ২০১২ সালের ১৯ জুলাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তবে মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পর আজও তার সৃষ্টি, চরিত্র আর গল্পে বেঁচে আছেন কোটি পাঠক-দর্শকের হৃদয়ে।

বর্ষা ছিল হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য গল্প, উপন্যাস ও গান। নিজের লেখা জনপ্রিয় গানের সেই চরণ, ‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো এক বরষায়’,আজও যেন তার ভক্তদের মনে অন্যরকম আবেগ জাগিয়ে তোলে। তাই প্রতি বর্ষায়, বিশেষ করে তার প্রয়াণ দিবসে, পাঠকদের মনে নতুন করে ফিরে আসে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি।

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রোববার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাতের প্রথম প্রহর ও সকালে প্রচারিত হয়েছে ‘তৃতীয় মাত্রা’-এর বিশেষ পর্ব। ফরিদুর রেজা সাগরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন কবি হাসান হাফিজ, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম এবং অভিনেতা ডা. এজাজুর রহমান। আলোচনায় উঠে আসে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র এবং ব্যক্তিজীবনের নানা স্মৃতি।

এ ছাড়া সকালে প্রচারিত হয়েছে ‘গান দিয়ে শুরু’-এর বিশেষ পর্ব। দুপুরে সম্প্রচারিত হবে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নন্দিত নরকে’, যা তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা শেষে একই বিভাগে শিক্ষকতা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’। প্রথম বই দিয়েই সাহিত্যাঙ্গনে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘দেয়াল’, ‘লীলাবতী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’সহ অসংখ্য কালজয়ী উপন্যাস রচনা করেন। তার সৃষ্ট হিমু, মিসির আলি, রূপা ও শুভ্র চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর অন্যতম।

সাহিত্যের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি ছিলেন সমান সফল। তার রচিত ও নির্মিত ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’সহ একাধিক ধারাবাহিক নাটক বাংলা টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ উপহার দিয়েছেন ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘আমার আছে জল’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র মতো দর্শকনন্দিত সিনেমা।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু সম্মাননা। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য অর্জন করেছেন আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

সময়ের ব্যবধানে মানুষ চলে যায়, কিন্তু সৃষ্টিকর্ম থেকে যায়। হুমায়ূন আহমেদও তেমনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অনন্ত নাম, যিনি তার গল্প, চরিত্র আর শব্দের জাদুতে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে যাবেন।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন