প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৪:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি, নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘এফডিআই সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলছি, যা হবে নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে পরিচালিত।’
তিনি জানান, চলতি বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকসসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে বৈচিত্র্য আনা, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং শিল্পায়নের গতি বাড়াতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন, ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন। দেশীয় কিংবা বিদেশি, যে কোনো বিনিয়োগকারীর পাশে সরকার থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নির্বাচিত সরকারের স্থিতিশীলতা দেশকে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার, বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং অর্জিত মুনাফা বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ব্যবসার সাফল্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; প্রবৃদ্ধিবান্ধব সরকারি নীতিমালাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে। আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থলে আয়োজিত ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ‘ফিকি এফডিআই রিপোর্ট’ উন্মোচন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন