প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৯:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন হোটেল পুনর্নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ে তোলা এবং কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়ও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্ত-মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, পরিবেশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনাও করে।
সরকারি সূত্র জানায়, ২০২২ সালে কক্সবাজারকে আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে সময়োপযোগী পরিবর্তন এনে নতুন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চায়। চলতি বছরের মধ্যেই পরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যেখানে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তবে এমন বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়, যাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। বিশ্বের অনেক দেশ পরিবেশ রক্ষা করেই উপকূলীয় এলাকায় সফল পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলেছে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেল সংযোগ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপ দেওয়া হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমিত ভূমির বাস্তবতায় বহুতল বা উল্লম্ব উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে। এতে কৃষিজমি ও পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণও নিশ্চিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি জানান, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তার ভাষায়, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে চাই। পর্যটন, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, গভীর সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বারে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে সরকার।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন