বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সীতাকুণ্ডে ফের বিষাক্ত গ্যাসের শঙ্কা, গা-ঢাকা বিএসবিআরএ নেতাদের

ছবি; সংগৃহিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে আবারও বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ও নতুন দুর্ঘটনার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 
এদিকে, এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর নিহতদের স্বজন ও উদ্ধারকারীদের পাশে না দাঁড়িয়ে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) শীর্ষ নেতৃত্বের গা-ঢাকা দেওয়ার ঘটনায় সর্বত্র তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট জাহাজের চারটির মধ্যে তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংকে কাটিংয়ের কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে এখন পর্যন্ত ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে অক্ষত থাকা এক ও দুই নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানিতেও বিষাক্ত গ্যাস বা ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকের তলদেশে কালো রঙের ঘন স্লাজ পাওয়া গেছে, যা আটকে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের মূল উৎস হতে পারে। স্লাজ বা পানি নাড়াচাড়া করলে আবারও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পরীক্ষা শেষে নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ল্যাবের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত জাহাজটির সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসমুক্ত ঘোষণা ছাড়া কাজে না ফেরার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বিএসবিআরএ-এর সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় আহত, নিহতদের পরিবার বা উদ্ধারকারীদের পাশে সংগঠনের নেতাদের দেখা যায়নি। সভাপতিসহ একাধিক নেতার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তাদের বাসাবাড়িতেও অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যান্য ইয়ার্ড মালিকদের ধারণা, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কায় দায়িত্বশীল নেতারা আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।
নিজের জীবন বাজি রেখে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা সাইফুল গনি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, উদ্ধারের পর তারা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু সংগঠনের কোনো নেতা তাদের খোঁজ নেওয়ার সৌজন্য পর্যন্ত দেখাননি। বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএসবিআরএ পৃথকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। এতে জাহাজটির ‘গ্যাস-ফ্রি’ সনদের বৈধতা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার দুর্বলতা তদন্তে প্রাধান্য পাচ্ছে। নিখাদ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিতকরণ, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং শিপব্রেকিং শিল্পে শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন