বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৮:২৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৪ কোটি ডলারে ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি, নিলামে নতুন রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

ফেরারির প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ বাজারে আসার আগেই তৈরি করেছিল ব্যাপক আগ্রহ। এবার নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিলাসবহুল এই বৈদ্যুতিক গাড়ি। লুচের বিশেষ ‘চ্যাসি জিরো’ সংস্করণটি বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা।

গত ১৫ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি কার উইকে আরএম সোথেবিজের আয়োজিত দাতব্য নিলামে গাড়িটি বিক্রি হয়। নতুন গাড়ির নিলামমূল্যের ক্ষেত্রে এটি নতুন বিশ্বরেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ফেরারিরই আরেক মডেল ‘ডেটোনা এসপি৩’-এর দখলে। ২০২৫ সালে একটি দাতব্য নিলামে গাড়িটি বিক্রি হয়েছিল ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে।

লুচের ‘চ্যাসি জিরো’ সংস্করণটি ফেরারির টেইলর মেইড বিভাগের বিশেষ কাস্টমাইজ করা একমাত্র নির্মিত গাড়ি এবং লুচে প্রোগ্রামের প্রথম প্রোডাকশন চ্যাসি। সাধারণ সংস্করণের লুচের দাম প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বা ৬ লাখ ৩৮ হাজার ডলার। সেই হিসাবে নিলামে বিক্রি হওয়া বিশেষ সংস্করণটির দাম সাধারণ মূল্যের ৬০ গুণেরও বেশি।

গাড়িটি বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ফেরারি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষামূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেরারির ঐতিহ্যবাহী উচ্চক্ষমতার সঙ্গে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি লুচে চার দরজা ও পাঁচ আসনের একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি। এতে প্রতিটি চাকায় একটি করে মোট চারটি বৈদ্যুতিক মোটর রয়েছে। সবগুলো মোটর মিলিয়ে গাড়িটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১ হাজার ৫০ হর্সপাওয়ার। মাত্র ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে পারে গাড়িটি। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩১০ কিলোমিটারের বেশি।

লুচেতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২২ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি। ফেরারির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে গাড়িটি ৫৩০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে। পাশাপাশি ৩৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে। প্রতি ১০০ কিলোমিটারে আনুমানিক ২১ দশমিক ৭ কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে বাস্তবে এই ব্যবহার গতি, আবহাওয়া, রাস্তার অবস্থা ও চালানোর ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

প্রযুক্তির দিক থেকেও লুচেতে রয়েছে বেশ কিছু উন্নত সুবিধা। ফোর-হুইল স্টিয়ারিং, টর্ক ভেক্টরিং এবং ৪৮-ভোল্ট অ্যাকটিভ সাসপেনশন ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে নতুন ই-ম্যানেটিনো কন্ট্রোলার। এর মাধ্যমে চালক গাড়ির ড্রাইভিং ও শক্তি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন মোড বেছে নিতে পারেন।

তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি লুচের নকশা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। মে মাসে উন্মোচনের পর প্রচলিত ফেরারি স্পোর্টস কারের তুলনায় এর মিনিমালিস্ট ডিজাইন নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ কেউ এটিকে ফেরারির ঐতিহ্যবাহী নকশা থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবেও দেখেছেন। গাড়িটির নকশা তৈরিতে সাবেক অ্যাপল ডিজাইন প্রধান জোনি আইভ ও মার্ক নিউসনের প্রতিষ্ঠান লাভফ্রমও সহযোগিতা করেছে।

লুচে উন্মোচনের পর ফেরারির শেয়ারদর একদিনে ৮ শতাংশের বেশি কমে যাওয়াও গাড়িটিকে ঘিরে বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে সমালোচনার মধ্যেও গাড়িটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ফেরারি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৬ সালে প্রায় ৫০০টি লুচে বিক্রির লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে গাড়িটির চাহিদা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নকশা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ৪ কোটি ডলারের নিলামমূল্য লুচের জন্য নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে, ফেরারির ব্র্যান্ড মূল্য ও বিশেষ সংস্করণের গাড়ির প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহ এখনো কতটা শক্তিশালী।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন