বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৭:১৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হাসপাতালে ইমরান খান, শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি ইমরান খানকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে আদিয়ালা কারাগার থেকে তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছেন তারা।

পিটিআই জানিয়েছে, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আদালত ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল প্যানেলকে ইমরানকে পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়।

ইমরান খানের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কারাবন্দি অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকারের দাবি, চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী ইমরানের এমন কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি, যার জন্য তাৎক্ষণিক হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে তাই ইমরানের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ইমরানের দল ও পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য একটি পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।

পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি রয়টার্সকে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ তাদের জন্য ‘নতুন আশার আলো’। তবে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং মুক্তির দাবিতে দলটি দেশব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুখারি জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে পিটিআইয়ের। ইমরান খানের মুক্তির দাবিকে সামনে রেখে দলটি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন তিনি। তবে পাকিস্তান সরকার তার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর থেকেই ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসের ঘটনা দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে। দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে এবার হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে ইমরানের স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে।

 


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন