প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৮:০৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে এবার আবেদন গ্রহণের সময়সীমা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া হতে পারে। সব কার্যক্রম শেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে প্রস্তাবিত সূচির বিষয়টি জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় বাঁচাতে এবার একাদশে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন করে খসড়া সূচি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই আবেদন, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত হবে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে। একই দিনে, ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের প্রস্তাব রয়েছে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফলে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, তাদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে পুরো সূচিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আবেদন ও ক্লাস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে এবার ঠিক কত ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে, সেটিও মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।
সাধারণত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তিন ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। প্রথম ধাপের আবেদন শেষে ফল প্রকাশ করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হয়। এরপর প্রথম ধাপে নির্বাচিত না হওয়া কিংবা নির্বাচিত হয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন না করা শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। একইভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী তৃতীয় এবং কখনো চতুর্থ ধাপেও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে এবার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদন গ্রহণের ধাপ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যান্য নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি।
বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা পছন্দক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবেন। পরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফল ও নম্বরের ভিত্তিতে আসন খালি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের নির্বাচন করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত তারিখ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন