প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:০০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মহাসড়কের দুই পাশে সারি সারি বাস, ট্রাক ও পিকআপ। কোথাও গাড়ির দরজা খুলে মাছ তোলা হচ্ছে, কোথাও বরফভর্তি বাক্স নিয়ে ব্যস্ত শ্রমিকরা। এর মধ্যেই একদিকে পর্যটকবাহী গাড়ি, অন্যদিকে স্থানীয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে থমকে যাচ্ছে মহাসড়কের স্বাভাবিক চলাচল। অথচ ঘটনাস্থল মহিপুর থানার একেবারে কাছেই। প্রতিদিন এভাবেই মহাসড়ক দখল করে চলছে মাছবোঝাইয়ের কাজ।পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্য বন্দরের চিত্র এটি। বন্দর থেকে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার সামুদ্রিক মাছ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। মাছ পরিবহনের জন্য বাস, ট্রাক ও পিকআপ ব্যবহার করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো টার্মিনাল বা লোডিং জোন না থাকায় ঢাকা- কুয়াকাটা মহাসড়কের ওপরই গাড়ি দাঁড় করিয়ে মাছ বোঝাই করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কুয়াকাটাগামী পর্যটক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক যানবাহনে মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। মাছ বোঝাইয়ের সময় এসব যানবাহন মহাসড়কের পাশে বা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের একটি বড় অংশ কার্যত দখলে চলে যায়। ফলে দুই দিকের যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কুয়াকাটা থেকে মহিপুর হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করা পর্যটকবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়। কখনো কখনো দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের।
সম্প্রতি এমন যানজটে আটকে পড়া ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রবিউল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা ঘুরতে এসে মহিপুর এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হলো। মহাসড়কের ওপর এভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মাছ বোঝাই করা হলে তো যানজট হবেই। আমি অবাক হয়েছি সবচেয়ে এই ভেবে যে, ৪০-৪৫ মিনিট এখানে আমরা আটকে ছিলাম কিন্তু প্রশাসনের কোনো নজরদারি বা যানজট নিরসনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু শুনলাম পাশেই নাকি মহিপুর থানা। এটা কোনোভাবেই আশা করিনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের ওপর মাছ বোঝাইয়ের এই কার্যক্রম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের মতে, মৎস্য ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীরা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি মহাসড়ক ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তবে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছ পরিবহনের জন্য তাদের নিজস্ব কোনো টার্মিনাল নেই। মহিপুরে নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল কিংবা মাছের গাড়ি লোড করার আলাদা জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে মাছ বোঝাই করতে হচ্ছে। মহাসড়ক ব্যতীত বিকল্প কোনো জায়গা তৈরি হলে আমরা সেখানে চলে যাব।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন , মহিপুর থানার কাছাকাছি এলাকায় প্রতিদিন এই কার্যক্রম চললেও যানজট নিয়ন্ত্রণ কিংবা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। ফলে একদিকে মহাসড়কে যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটননির্ভর কুয়াকাটায় আসা-যাওয়া করা মানুষজনকে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
মহিপুর মৎস্য বন্দরের মাছ পরিবহনব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট লোডিং জোন বা টার্মিনাল স্থাপন করা হোক। একইসঙ্গে মহাসড়কের ওপর মাছ বোঝাই বন্ধ করে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয় মহিপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, আমরাও চাই না মহাসড়কে গাড়ি রেখে মাছ লোড করতে। কিন্তু মাছ পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাতে হয়। কর্তৃপক্ষ যদি আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে এবং আমরা তাদেরকে রাস্তা ফ্রি রেখে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি। সাধারণত মানুষের ভোগান্তি এড়াতে এবং যানজট নিরসনে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, আমরা অস্থায়ীভাবে একটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছি। এ বিষয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি কাজটি শুরু করতে পারছেন না। খুব দ্রুতই এই ইউনিয়নে প্রশাসক বসবে এবং নির্মাণাধীন কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে মৎস্য ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং স্থানীয় শ্রমিক নেতাদেরকে ইতোমধ্যে আমরা অবহিত করেছি, রাস্তা বন্ধ রেখে অথবা রাস্তার দুই পাশে পার্কিং করে কোনোভাবেই মাছের গাড়ি লোড-আনলোড করা যাবে না। এই নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন