প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:০৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বর্ষার পানিতে থইথই করা চলনবিলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এখন ম্লান হয়ে গেছে কচুরিপানার আগ্রাসনে। একসময় যেখানে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত বিস্তীর্ণ জলরাশি, সেখানে এখন চোখে পড়ে কেবল কচুরিপানার সবুজ আস্তরণ। এর প্রভাবে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, মৎস্য আহরণ ও নৌ-চলাচল। দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক, জেলে, মাঝি ও পর্যটকরা।
নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জলাভূমিতে কচুরিপানার বিস্তার ঘটেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের স্বচ্ছ পানির ওপর মাইলের পর মাইলজুড়ে ভাসছে কচুরিপানার স্তর। এতে বিলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌকা। কিন্তু কচুরিপানার পুরু স্তরের কারণে অনেক স্থানে নৌচলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঝি আশরাফ হোসেন বলেন, কচুরিপানার কারণে নৌকা চালানোই কষ্টকর হয়ে গেছে। ইঞ্জিনের ফ্যানে কচুরিপানা আটকে যায়। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। দূরের পথ ঘুরে যেতে হওয়ায় সময় ও জ্বালানি দুটোই বেশি লাগে।
চলনবিলে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। নওগাঁর আত্রাই থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলনবিলের সৌন্দর্যের কথা শুনে এসেছিলাম। কিন্তু এখন পুরো বিল কচুরিপানায় ঢাকা। আসল সৌন্দর্যটাই যেন হারিয়ে গেছে। আমাদের নৌকাও কয়েকবার কচুরিপানায় আটকে গিয়েছিল।
কচুরিপানার বিস্তার সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে কৃষিখাতে। আসন্ন আমন ধান, আগাম সরিষা, গম ও বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। কৃষক ফরিদ হোসেন বলেন, জমি চাষের আগে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। বন্যার ক্ষতি সামলাতে না সামলাতেই বাড়তি এই খরচের চাপ নিতে হবে। আবার টাকা দিলেও শ্রমিক পাওয়া কঠিন। প্রতিবছর কচুরিপানা পরিষ্কার করি বর্ষায় আবার যেন তা কয়েকগুন বেড়ে যায়।
আরেক কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, কচুরিপানা সরানোর কাজ সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক কৃষক জমি অনাবাদি রাখার কথাও ভাবছেন।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর ইসলাম খান বলেন, চলনবিলে কচুরিপানার বিস্তারের কারণে কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। জমি পরিষ্কারে অতিরিক্ত শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে অনেক কৃষক ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কচুরিপানা অপসারণে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন