ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে খতনার সময় শিশুর মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৮, ২০২৬, ১২:২০ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

চট্টগ্রাম নগরে খতনা করাতে গিয়ে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক নির্দেশনায় কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমও (ডিসি) ডা. মো. নুরুল হায়দারকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মীরসরাই উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. মোহাম্মদ রাজিব হাসান, বোয়ালখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. নিগহাত জাবীন এবং হাটহাজারী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম।

জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনার প্রস্তুতির সময় মোহাম্মদ মোস্তফা নামে ওই শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মোস্তফার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামে। তার বাবা আবু মুসা জানান, শনিবার সকালে ছেলেকে নগরের বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকায় অবস্থিত সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাকে অপারেশন কক্ষে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দ্রুত চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। সেখানে নেওয়ার পর আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবু মুসার অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তার ভাষায়, খতনার মতো একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সন্তানের প্রাণ হারানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রথমবার ওই চিকিৎসকের কাছে মোস্তফাকে দেখানো হয়েছিল। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত হয়। সেখানে খতনা ও ছোট পরিসরের একটি অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ ছিল এবং জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল বলে পরিবার দাবি করেছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজনদের অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।


বাংলাধারা/এসআর