বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যা : সিফাতসহ ৭ জনের ১০ দিনের রিমান্ড

ছবি; সংগৃহিত

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল হত্যা মামলায় কথিত সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ সাতজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার চার নারীকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুলবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত সাতজনের ১০ দিন এবং চার নারী আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহিনের ছেলে শেখ সিফাত (৩২), কদমরসুল এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে মো. সিয়াম (২৫), বারপাড়ার রবিউল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), শাহী মসজিদ এলাকার সোবাহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), চিতাশালের ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯) এবং চৌধুরীবাড়ির সোহেলের ছেলে সিজান ওরফে জিসান (২৬)। অন্যদিকে তিন দিনের রিমান্ডে যাওয়া চার নারী হলেন—সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা (৩৬), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা এবং শাহী মসজিদ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন (৪০)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার শিকার হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বুলবুল (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রায় এক বছর পর গত ২০ আগস্ট তিনি বন্দর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলা করার পর থেকেই বুলবুলকে আসামিরা হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার রাতে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে কয়েকজন বুলবুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয় এ ঘটনায় পরদিন বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আগের ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে নয়টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানিয়েছেন, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন