প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় ইরানের রাজধানী তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। সোমবার তার এ সফর হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার এক বিবৃতিতে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের সরকারি দুটি সূত্রও ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে অসীম মুনিরের তেহরান সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগেও ইসলামাবাদ সক্রিয় ছিল।
পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান সফরে অসীম মুনির ইরানের নেতাদের সঙ্গে ইসলামাবাদ চুক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা এবং পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের চুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে হুথিদের ঘিরে সৃষ্ট আঞ্চলিক সংকটও আলোচনায় আসতে পারে।
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা নিয়ে তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরানের অর্থনীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর আগে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, কোনো দেশ ইরানকে সহায়তা করলে কিংবা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে তাদেরও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে। অননুমোদিত তেল ট্যাঙ্কারগুলো চলাচলের চেষ্টা করলে তেহরান হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ভূমিকার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন