বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তিন বছরে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানতে চান, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর তালিকা, বন্ধের কারণ এবং পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্যভুক্ত ১২৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে মোট ৪০৫টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ। এর মধ্যে রয়েছে করোনা মহামারির বৈশ্বিক প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা।

এ ছাড়া অর্থ পাচারের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে তৈরি হওয়া তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের মনিটরিংয়ের সুবিধার জন্য ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহের বিষয়টিকেও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। বিদেশি ক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক বড় ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পরিচালিত কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর রপ্তানি আদেশ কমে যাচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দিচ্ছে।

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এ ছাড়া রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সরকারের এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, রপ্তানি অব্যাহত রাখা এবং পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই অবস্থানে রাখা।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে।

জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারের বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে তিন বছরে ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য তাই খাতটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের একটি বড় চিত্র তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করে এই শিল্পকে টেকসই রাখা এখন সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

 

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন