বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩ মিনিট আগে, ০১:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরু ও শেষ সময়, যা জানা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত এবং প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা এ ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু নামাজ পড়াই নয়, কোন ওয়াক্ত কখন শুরু হয় এবং কখন শেষ হয়, এ বিষয়েও একজন মুসলমানের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত ১০৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় শিক্ষা দিয়েছিলেন জিবরাইল (আ.)। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি দুই দিন রাসুল (সা.)-এর ইমামতি করেন। প্রথম দিন নামাজগুলো আদায় করেন ওয়াক্তের শুরুর সময়ে এবং দ্বিতীয় দিন আদায় করেন ওয়াক্তের শেষ সময়ে। এরপর তিনি বলেন, ‘এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময় তোমার ও তোমার উম্মতের জন্য নামাজের সময়।’ (আবু দাউদ, হাদিস ৩৯৩)

বর্তমান সময়ে ঘড়ি, ক্যালেন্ডার ও বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে নামাজের সময় জানা সহজ হয়েছে। তবে নামাজের সময় নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো সূর্যের অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবর্তন। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুভেদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কিছুটা পরিবর্তিত হয়।

ফজর

ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় সুবহে সাদিক থেকে। অর্থাৎ রাতের অন্ধকার কাটিয়ে পূর্ব আকাশে ভোরের সত্যিকারের আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে ফজরের সময় শুরু হয়।

এই ওয়াক্তের শেষ সময় সূর্যোদয় পর্যন্ত। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। তাই সূর্যোদয়ের পর ফজরের নামাজ আদায় করা যায় না; সে ক্ষেত্রে তা কাজা হিসেবে আদায় করতে হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬১২)

জোহর

সূর্য যখন মধ্য আকাশ অতিক্রম করে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে, তখন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। একে জাওয়ালের পরবর্তী সময়ও বলা হয়।

জোহরের ওয়াক্তের শেষ সময় নিয়ে মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কোনো বস্তুর ছায়া তার প্রকৃত দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ হলে জোহরের সময় শেষ হয়ে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। অন্য মাজহাবগুলোতে ছায়া বস্তুর সমান হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৪৯)

আসর

আসরের সময় শুরু হওয়ার ক্ষেত্রেও মাজহাবভেদে পার্থক্য রয়েছে। শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী কোনো বস্তুর ছায়া তার মূল দৈর্ঘ্যের সমান হলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, ছায়া দ্বিগুণ হলে আসরের সময় শুরু হয়।

আসরের ওয়াক্ত সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকে। তবে সূর্য যখন হলুদ বা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি চলে আসে, তখন ইচ্ছাকৃতভাবে আসরের নামাজ বিলম্ব করা অনুচিত। হাদিসে এ সময় নামাজ আদায় করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৫৩)

মাগরিব

সূর্য সম্পূর্ণভাবে অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয়। অর্থাৎ সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হয়ে যায়।

পশ্চিম আকাশের লাল আভা বা শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেলে মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয় এবং এশার সময় শুরু হয়। স্থান ও ঋতুভেদে এ সময়ের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হতে পারে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস ৫২৭)

এশা

পশ্চিম আকাশের লাল আভা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হওয়ার পর এশার ওয়াক্ত শুরু হয়। এশার সময়ের শেষ সীমা নিয়ে ফিকহে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। সাধারণভাবে মধ্যরাত পর্যন্ত এশার নামাজ আদায় করা উত্তম সময়ের মধ্যে ধরা হয়; তবে ফজরের সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এশার নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকে।

তবে অকারণে এশার নামাজ অনেক দেরি করে আদায় করা উচিত নয়। নামাজের সময় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে নির্ধারিত সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬১২)

সময়মতো নামাজ আদায় কেন গুরুত্বপূর্ণ

নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ককে বারবার নবায়ন করার সুযোগ। আর সেই ইবাদত নির্ধারিত সময়ে আদায় করাই এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় কাজ, পড়াশোনা, যাতায়াত কিংবা নানা ব্যস্ততার কারণে নামাজের সময় পার হয়ে যায়। তাই প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্তের সময়সূচি আগে থেকে জেনে রাখা এবং প্রয়োজনে মোবাইলের অ্যালার্ম বা নির্ভরযোগ্য নামাজের সময়সূচি ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, বিভিন্ন অ্যাপ বা অনলাইন সময়সূচি সহায়ক হলেও নামাজের সময় নির্ধারণে স্থানীয় মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা নির্ভরযোগ্য আলেমদের প্রকাশিত সময়সূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও গণনার পদ্ধতির কারণে বিভিন্ন স্থানে সময়ের সামান্য পার্থক্য হতে পারে।

নামাজের সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া মূলত ইবাদতের প্রতি সচেতন হওয়ারই অংশ। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরু ও শেষ সময় সম্পর্কে ধারণা রাখা, সময়মতো নামাজ আদায় করা এবং জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ইবাদতের জন্য নির্ধারিত সময়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাসময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার এবং তা একাগ্রতার সঙ্গে পালন করার তাওফিক দান করুন। 

আমিন।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন